সৈয়দ সাখাওয়াৎ সেদিন সিক্ত সন্ধ্যায়, অস্ফুট কথাদের আড়ালেনক্ষত্র যেন ঘুমিয়ে পড়েছিলো। অথবা তুমিই–মনে হলো বহুযুগ ধরে তোমার চোখের ‘পরেতিরতির করে কেঁপে উঠেছিলে নিভৃত পালকে মর্মে যে সুর বেজেছে, বুঝিবা সেই সব ছায়ায়জড়িয়েছে এই শব্দ–শহরের সব...
যেভাবে আঙুল থাকে পরস্পর থেকে সমদূরেতারচেয়েও অধিক দূরে থাকে শরীরের ভারমানুষের চেয়ে বেশি দূরে আর কিছু নেই যেনকার্ণিশে ধুলোর মতো, জমে শুধু বিপুল আঁধার। ফিরছি, দু’কাঁধে ভর করে আছে জাগতিক মেহনিঃসঙ্গ শিষ যেন, বহুদূরে দেখা অবসাদে-নুয়ে পড়েছে ঘুমের মতো, রেখে...
সৈয়দ সাখাওয়াৎ মনোসরোনীর বুকে বেজেছে ব্যাকুল কোন গানতোমারই স্মৃতিচিহ্ন আলুথালু জীবনের পাশে–পড়ে আছে–অগ্রহণে–লীন হয়ে যাওয়া বাতাসেচির কুয়াশায় বুঝি হারিয়েছে সহজের ঘ্রাণপাথরের বুকে যেন খোদাই করে রেখেছে স্মৃতি–যেখানে রাতের ছায়া...
নতুন দিন ফুটেছে, তুমি ছিঁড়ে নিলে খেলাচ্ছলে!যেন কিছুই হয়নি—সন্ধ্যামুখে সমাধি মন্দিরেধাতুফলকের মাঝে সংঘর্ষে তীব্র চমকালে—যেনবা আকাশপথে মুত্যু নেমে আসে—নির্বিচারেপথে পথে তাই যেন না-মানুষের বিছানা পাতাআলিঙ্গনে—প্রেতরূপ সে’ দৃশ্যের চেনা পরম্পরাবিছানায়...
সৈয়দ সাখাওয়াৎ কেবল তুমিই জানো, এখনো এই পালাবদলে–এই সোঁদাগন্ধভরা নদীতে কেন ভেসে বেড়াইকেন শহরের পথে পথে একা একা হেঁটে যাইএই লক্ষ্যহীন যাত্রা কোথায় নিয়ে যায় আমাকেতা-ও জানো কোনখানে জমে ওঠে বিষাদের জলহারিয়ে গেলে তুমিও কি কাঁদবে স্মৃতি সমাধিতে...
সৈয়দ সাখাওয়াৎ কেন এই নিষ্ফলতা, তন্দ্রাহীনতা শরীরজুড়েএই দূর যাত্রাপথে কোথাও কি থেমেছো তুমিওলোকালয়ে–সারি সারি মানুষের মুখ, ক্লান্তিহীন–ছুটে চলা পাথরের মতো, ক্রমে ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায়তোমার অস্ফুট স্বরে যে বেদনা ধরে রাখো প্রিয়বুকের ভেতর যেন দীর্ঘ সংঘর্ষ টের...
আমাদের দিনগুলো হাতে নিয়ে আসেনি কখনোঅথচ ভীষণ একা, মানুষের শরীরের কাছে—কেবল অস্থি-চর্মের আড়ালে ছায়া হয়েছি শুধুকেবল তোমার চোখ, দূরতম দ্বীপ হয়ে আসেমুদ্রিত হরফে তার খবর পাই বিশীর্ণ দিনেযেন কেউ ছিল প্রশ্নে, আমার উত্তর না জেনেইতুমি চির তিমিরের মাঝে চোখ...
সৈয়দ সাখাওয়াৎ যেদিন শব্দেরা পথ থমকে দাঁড়িয়ে ওই মুখেদ্যাখেছে চোখের রঙ, বুকে পুষে স্বপ্নের মাদুলিদূর কোন জানালায় রোদ ছুঁয়ে যায় কিংশুকেসেদিন কি জানবে না তুমি–হৃদয় বলেছিল কী? আমার ধর্ম মানিনি–যেনবা খুঁজে গ্যাছি তোমাকেজলের গহীন স্বরে অথবা...
একদিন সবকিছু থামে, চোখ থেকে সরে যায়—অমীমাংসার ছায়া—পরিচিত ভঙ্গি ক্লিশে লাগেতখন স্বপ্নের চেয়ে অতিদ্রুত নেমে আসো তুমিএই যে চলে যাওয়া—হেমন্তের চিরচেনা সন্ধ্যাশরীরের গাঢ় ঘ্রাণ, সবকিছু পুরনো চিঠির—মতো দূরতম দ্বীপ হয়ে ওঠে। রাতের আকাশে—নিরীহ বাতাস থির হয়ে...
আমার স্মৃতির কাছে তারা যেন অম্লান গোধূলিযারা এসেছিলো কাছে—অবসন্ন জীবন পেরিয়েএই ফুরিয়ে যাওয়া জীবনে, প্রগাঢ় ভালোবেসেআমি তার ছায়া থেকে মুছে ফেলি অশ্রুবিন্দুগুলি। তবু কা’র অশ্রুবিন্দু ঝরে? একা ঘরের খোলসে?সে-ও পরবাসী হয়, স্পর্শরেখা ছেড়ে অবশেষে। আমার জীবন...
