সর্বশেষ প্রকাশিত

শর শয্যায়

শর শয্যায়

সৈয়দ সাখাওয়াৎ হাত সরিয়ে নিও না, আর কোথায় দাঁড়াবো বলো?এই অসহনীয়তা কতদূর টেনে নিয়ে যাবেমিলনের শ্বাসরোধী উপকথা অগোচরে থাকজানি, বলবে এখুনি–আজ যাবার সময় হলো। বরং সূর্যোদয়ের পথে যতটা ঐশ্বর্য জমেতার রঙরূপ থেকে তোমার আদল গড়ে নেবোচোখের পাপড়ি হবে...

সন্ধ্যা নেমেছে বলে

সন্ধ্যা নেমেছে বলে

সৈয়দ সাখাওয়াৎ শুকনো পাতার মতো পড়ে আছে শরীরের ঘ্রাণবিছানা-বালিশ ছুঁয়ে আরো কিছু স্বপ্নের আবাদেযেন বহুযুগ ধরে, নিরপেক্ষ পাখিদের গান-শুনে শুনে ঘুমিয়েছে বৃক্ষ ও জলের সঙবেদে। ওই যে পথের মোড়, শরীরের মতো দ্যায় উঁকিযেনবা পাহাড়সারি কাঙালের মতো চোখে চোখেধরেছে...

এইসব নিদ্রাহীনতা যেন এক নিংসঙ্গ সারস

এইসব নিদ্রাহীনতা যেন এক নিংসঙ্গ সারস

প্রতিটি মানুষ জানে তার তন্দ্রাহীনতার ভেতর-এককোটি রক্তবর্ণ গোলাপ শরীরে ফুটে থাকে।অথচ নদীর জলে সেসব ছায়া ফুটে ওঠেনিসেদিন অস্ফুট স্বরে তাই ঝরে গ্যাছে ফুলগুলো–নিষ্ফলতা ও মৃত্যুর অনুর্বর ভূমিতে। নিয়তি-এই যাবতীয় ঈর্ষা, নিজেকে ক্ষতবিক্ষত করেনিঃসঙ্গ...

এইসব দিন ফুরিয়ে গেলে

এইসব দিন ফুরিয়ে গেলে

সৈয়দ সাখাওয়াৎ বিচ্ছিন্ন দিনের শেষে, সন্ধ্যা নেমে আসলে সম্মুখেটের পাই সবকিছু অসুখে-বিসুখে ঝরে যাচ্ছেযেমন পুরনো ফোন পালটে ফেলছো তুমি—শুধু—মধ্য দুপুরের গানে সেইসব অতিলৌকিকতাঝরে পড়ে বিস্মরণে; আর যা কিছু উচ্ছিষ্ট থাকেতাকে পারি না এড়াতে—”বিজন ঘরে নিশীথ...

সমস্ত স্তব্ধতা শেষে

সমস্ত স্তব্ধতা শেষে

সৈয়দ সাখাওয়াৎ আকাঙ্ক্ষা প্রবল জানি, জানি এ উন্মত্ত হাওয়ায়বুকের ভেতর যেন ধূ ধূ অন্ধকার মিশে যায়–আরও এক ভীষণ অন্ধকারে, অমা রাত্রি যেনসমস্ত শরীরে এসে ভর করে– বুঝি এখনও–সুর তার বিলয়ের পথ ধরে চলে গ্যাছে দূরেআর আমার বিষণ্ন চোখ সেই পথে...

পারাপারে

পারাপারে

সৈয়দ সাখাওয়াৎ সকল কথার পর, তবু যেন কত কথা থাকেএই অর্থহীন রাত্রি মিশে যায় আরও গভীরেযেখানে ঘাসেরা শুয়ে–ফিসফাস বাতাসের স্বরতোমার কণ্ঠের মতো ঝরে পড়ে, যেনবা স্তব্ধতা–মিশে যায় প্রতিপলে–মুখরতাহীন অমা রাত্রিক্রমে ক্রমে নেমে...

অনন্ত কোলাহল

অনন্ত কোলাহল

সৈয়দ সাখাওয়াৎ আমাদের দীর্ঘ হলো না কিছুই। অসময়ে বৃষ্টির মতন যেন এলে আর ভিজিয়ে দিয়ে সমগ্র চলে গেলে দূর কোন লোকে। অনুভবের মায়াজাল ছিন্ন করে কোনদিন পারি না যেতে। অথচ এই যে শিল্পের মওসুম, এই যে রাত্রি জাগরণের কোলাহল–সবকিছু এক বিন্দুতে এসে দাঁড়ায়...

প্রতিভাষা

প্রতিভাষা

সৈয়দ সাখাওয়াৎ # মুঠো ভর্তি অন্ধকার নিয়ে সন্ধ্যা চলে যায় যদিস্মৃতির গহ্বরে যদি জমে ওঠে মগ্ন কোনো শীতজানি অক্ষরে হারাবে সব, এই মর্মরে নিয়তি–আলো থেকে অন্ধকারে বেজে যাবে বিষণ্ন সঙ্গীতআমি তো বলেছি মেঘ– ওই নামে বৃষ্টি নামে যদিযদিবা পুরনো...

এই মৃতের গহ্বরে

এই মৃতের গহ্বরে

শহরজুড়ে মৃত্যুর ছায়া, ভীরু মানুষের মুখে–রাত বুঝি থেমে গ্যাছে, রক্তচিহ্ন পতাকা শরীরেমৃতদের দেহগুলো চিরস্থায়ী ক্ষতের সহগেএঁকে যায় মানচিত্র, নিস্পৃহতার চির গহ্বরে।আমরা যেনবা বেঁচে আছি এই অস্থির সময়েজীবিতের প্রয়োজন মেনে, অন্ধ হয়ে বসে আছিশুকনো...

সকল বইয়ের মলাট এক মনে হয়

সকল বইয়ের মলাট এক মনে হয়

সৈয়দ সাখাওয়াৎ প্রতিটি নতুন মুখ–সম্ভাব্য বৈচিত্র্য থেকে দূরে– পুড়ে পুড়ে কয়লা হয়ে গেলে, সকল বইয়ের মলাট তখন এক মনে হয়। কখনো বিচিত্র লাগেনি রাশি রাশি মানুষের মুখের সারি দেখে, অজস্র কত শত মানুষ, উদ্দেশ্যবিহীন হেঁটে চলে যায়। এজটা মানুষ, কখনো...

সৈয়দ সাখাওয়াৎ
সৈয়দ সাখাওয়াৎ

সৈয়দ সাখাওয়াৎ

জন্ম ৮ আগস্ট ১৯৭৮; চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নৃবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর।